ইউক্রেনের নিরাপত্তা সহায়তার জন্য ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আজ শনিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি স্মারক স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন,তথ্যসূত্র আল-জাজিরা।
প্রথমে বৈদেশিক সহায়তা আইনের মাধ্যমে বরাদ্দ করা সাড়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ইউক্রেন কে অবিলম্বে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্রসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে নির্দেশ দেন জো বাইডেন। এন্টনি ব্লিঙ্কেনের কাছে একটি স্মারকলিপিতে তিনি এ নির্দেশ দেন। পরে আইনের কোনো বিধানের তোয়াক্কা না করেই আরও আড়াইশো মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ‘ইউক্রেনকে অবিলম্বে সামরিক সহায়তা’ প্রদান করার কথা বলেন জো বাইডেন।
খুবশীঘ্রই এসব বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি জারি করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ২৫ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে ৪০ মিনিটের ফোনালাপের কথাবার্তার পর এ সহায়তা ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, ফোনালাপে দুই নেতা রাশিয়ায় নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেছেন।
বৈঠকের পরে জেলেনস্কি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তারা ‘নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা, কংক্রিট প্রতিরক্ষা সহায়তা ও যুদ্ধবিরোধী জোট’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Insurance-Desh Bangla
বিবিসির খবরে বলা হয়, ফোনালাপের বিষয়ে এর বেশি কিছু জানা যায়নি।
এদিকে ইউক্রেনে তৃতীয় দিন শনিবারও (২৬ ফেব্রুয়ারি) হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে কিয়েভে একের পর এক হামলা চালায় রুশ সেনাবাহিনী। প্রকম্পিত হয় পুরো রাজধানী শহর কিয়েভ। কিয়েভের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় রাশিয়া। তবে এ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে পাল্টা দাবি করেছে ইউক্রেন সেনাবাহিনী।
রাশিয়ার সামরিক হামলায় এখন পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করছে দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। সংস্থাটির জরুরি বিতরণের পরিচালক ল্যানি ফোর্টিয়ার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। চারদিক থেকে ইউক্রেনকে ঘিরে হামলা চালায় রুশ সেনারা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বার বারই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেন সেনা অস্ত্র সংবরণ না করলে সামরিক অভিযান জারি থাকবে। ইউক্রেন বলছে তারা আলোচনার প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে রাশিয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান কূটনীতি নয়। হামলা চালিয়ে কূটনীতি চলতে পারে না। আগে হামলা বন্ধ করতে হবে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে বিভিন্ন দেশে। যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, কানাডা, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশে রুশ হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার মানুষ।
আরও পড়ুনঃ পুরনো স্মার্টফোনের আয়ু বাড়ানোর ৫ উপায়